বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং। ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। দুপুর ২:০০








প্রচ্ছদ » আইন ও আদালত

২৩ বছর জেল খেটে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ‘ভ্যান’ পেয়ে কাঁদলেন শামসু

পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে  হত্যা করে যাবজ্জীবনের জন্য কারাগারে যান  শামসু নামের এক লোক। তার বাড়ি রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার গোকুল গ্রামে। আত্র বাবার নাম জালেব দর্জি।

১৯৯৫ সালে ২২ মার্চ স্ত্রী রূপজানকে হত্যা করে যাবজ্জীবনের জন্য কারাগারে যান শামসু ।এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর দায়রা জজ আদালত-৪ তাকে  সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...

একইসঙ্গে দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল তার। কারাবন্দি থাকাকালীন কারাবিধি মেনে চলায় ৬ বছর চার মাস ২৬ দিন সাজা মওকুফ করা হয়েছে শামসুর।

দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগ শেষে জেল থেকে বেরিয়ে ভ্যান পেয়ে কাঁদলেন। তিনি বললেন, ২৩ বছর ৭ মাস ৬ দিন কারাগারে কাটিয়েছি। কারাগারে গিয়ে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছি, রেখে যাওয়া ছয় মাসের শিশু কন্যা মারা গেছে।

তীব্র মানসিক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। ভুল করে স্ত্রীকে আঘাত করেছিলাম। এতে মারা যায় স্ত্রী। বিষয়টি যখন উপলব্ধি করতে পেরেছি তখন আর সময় ছিল না। একেবারে খালি হাতে কারাগার থেকে বেরে হয়ে কী করব এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।

কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ আমার জন্য যে ভ্যানের ব্যবস্থা করেছেন এটি চালিয়ে আমার জীবন কেটে যাবে। এর জন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বন্দি সংশোধন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সভাপতি ও সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন,

কারাবন্দি থাকাকালীন শামসুদ্দিন কারাবিধি মেনে চলেছেন। এখানে তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক কাজেরও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাকে এই সহায়তা দেয়া হয়েছে।

কারাগার পুরোপুরি সংশোধনাগার। এখানে বন্দিদের সংশোধনে যাবতীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা তাদের পুনর্বাসন করছি।

 

আরও পড়ুন>>> বিখ্যাত মনীষীদের ১০০ বাণী