বুধবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং। ৩রা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। দুপুর ১:৪৬








প্রচ্ছদ » এক্সক্লুসিভ

পীরের নিষেধে ১৯৭২ সাল থেকে ভোট দেন না যে এলাকার নারীরা!

আর মাত্র ১ দিন বাদেই শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সবার মাঝে কাজ করে চলেছে অন্য রকমের এক উত্তেজনা। এই নির্বাচনকে ঘিরে নানান ধরণের ঘটনা ঘটছে।

এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বেরিয়ে এসেছে অজানা এক ঘটনা। ধর্মীয় নেতা বা পীর ভোট দিতে নিষেধ করায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার একটি সম্পূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের নারী ভোটাররা। খবর ইউএনবি’র।

স্থানীয় শিক্ষিতরা জানান, ১৯৭২ সাল থেকে এখানকার কোনো নারী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। এমনকি রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ওই নারী ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ না করতে পারেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ২৪ হাজার ৪৫৪ জন। এরমধ্যে ১২ হাজার ১১৪ জন নারী ভোটার।

কয়েকজন নারী ভোটার এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পীরের নিষেধ অমান্য করে তারা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।

কয়েকজন পুরুষ খোলাখুলিভাবে জানালেন, তাদের স্ত্রীরা চাইলেও তারা ভোট দিতে যাওয়ার অনুমতি দেন না।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ভোট দিতে না যাওয়া এক নারী বলেন, ‘১৯৭২ সালে পীর হযরত হাসান মওদুদ জাইনপুরী (র.) আমাদের বোরকা পরার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ভোটের দিন ঘরের বাইরে গিয়ে ভোট না দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।’

ওই এলাকার মুরুব্বিরা ১৯৭২ সালের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময়ে ডায়রিয়া ও কলেরা নামের দুটি মরণব্যাধী মারত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এটাকে অভিশাপ বলে অভিহিত করে। ওই রোগের প্রভাবে তিন দিনের মধ্যে কয়েকজন মারা যান।

তারা বলেন, তখনই পীরের আগমন ঘটে এবং তিনি স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করে অনিবার্য মৃত্যুর হাত থেকে তাদের রক্ষা করেন। তখন ওই এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই পীর ভোটসহ যেকোনো বিনোদনের উদ্দেশ্যে এলাকার নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

নারীদের মধ্যে গুজব রয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে কয়েকজন শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন নারী পীরের নির্দেশ অমান্য করে ভোট দিতে গেলে দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। এছাড়া ভোট দেয়ার পরই ভোটকেন্দ্রে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলেও গুজব রয়েছে।

আরও পড়ুন... গুণীজনের ১০০ বাণী , যা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে