রবিবার, ২৪শে মার্চ, ২০১৯ ইং। ১০ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। সকাল ৬:২১








প্রচ্ছদ » বিনোদন

কেন এই মিথ্যা কথা? খুব কষ্ট পেলাম: কাজী হায়াৎ

দেশের গুণী পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী কাজী হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে বুধবার সন্ধ্যায়। কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এই পরিচালকের পরিবার। কাজী হায়াৎ নিজেও বিষয়টি জানতে পেরে খুব কষ্ট পেয়েছেন। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করতে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

ভিডিওবার্তায় কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আমি হাসপাতালে আছি। অসুস্থ, তবে বেঁচে আছি। যারা মিথ্যা কথাটা ছড়িয়েছে তাদের আমি নিন্দা করি। কেনো এই মিথ্যা কথা? আমি খুব কষ্ট পেলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেনো সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারি।’

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশের বরেণ্য চিত্রপরিচালক ও অভিনয়শিল্পী কাজী হায়াৎ। বর্তমানে এই গুণী মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে কাজী হায়াৎকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ‘গুজব’ ছড়িয়ে পড়ার পর ছেলে অভিনেতা কাজী মারুফ তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্লিজ কোনো অপপ্রচার চালাবেন না। আমার বাবা ভালো আছেন।’

বাবার জন্য কাজী মারুফও দোয়া চে‌য়ে‌ছেন, “আমার আব্বার জন্য সবাই দোয়া করবেন। তিনি যদি কখনও কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন তবুও তার জন্য দোয়া করবেন। যেন তিনি সুস্থ হয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন।”

সম্প্রতি কাজী হায়াতের ঘাড়ের একটি রক্তনালী ব্লক হয়ে যায়। তাই গত ২২ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য তিনি পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কে যান।

নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে কাজী হায়াৎ অন্য একটি ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমার ঘাড়ের যে রক্তনালীটি দিয়ে মাথায় রক্ত পৌঁছায়, সেটি নাকি ব্লক হয়ে গেছে। তাই বাইপাস করতে হবে। বাংলাদেশে এই রোগের চিকিৎসা হয় না। দোয়া করবেন আমি যেন ফিরে আসি।’

‘যেদিন আপনারা ভোট দেবেন উৎসবমুখর পরিবেশে, হয়তো সেদিন আমি অপারেশনের টেবিলে থাকবো। আমি আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই আরও অনেকদিন। আমার স্বপ্ন আবার আপনাদের মাঝে ফিরে আসবো। আবার বাংলাদেশের মাটিতে এসে অ্যাকশন-কাট বলবো।’

বিগত কয়েক বছর ধরে কাজী হায়াৎ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ১৯৯৩ সালে তার হার্টে সমস্যা দেখা দেয়। তখন তার হার্টে একটি ব্লক ধরা পড়েছিল। তখন তিনি ভারতের বিরলা হার্ট সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

এরপর ২০০৪ সালে আবারও সমস্যা দেখা দেয়। তখন তার হার্টে ৪টি রিং বসানো হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওপেনহার্ট সার্জারি করা হয়। গেল বছরের জানুয়ারি মাসে নতুন করে হার্টে সমস্যা দেখা দিলে এই নির্মাতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী তাকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা করান।

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...