বুধবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং। ৩রা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। দুপুর ২:৩৬








প্রচ্ছদ » প্রবাস

মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা এবার নতুন মিশনে

মানুষ জন্মগ্রহণ করে কতগুলো মৌলিক অধিকার নিয়ে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা পাবার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকটি মানুষের। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে মানুষ নানা কারণে এক দেশ থেকে অন্য দেশে কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গার অভিবাসী হয়েছে এবং হচ্ছে।

পুরো বিশ্বে নগর সভ্যতার সম্প্রসারণের প্রয়োজনে অভিবাসী সংশ্লিষ্টতা ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নয়। এদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যেসব খাত বিশেষ ভূমিকা রাখে তার ভেতর ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান’ খাতটি অন্যতম। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় একদিকে বেকারের সংখ্যা কমছে এবং অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

অথচ মালয়েশিয়ায় অভিবাসন-প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের প্রায় ৫১ শতাংশই প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অধিকার মর্যাদা ও ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় লড়াই করে চলেছেন অভিবাসীরা। কিন্তু কতটুকু ন্যায় বিচার, অধিকার ও মর্যাদা পেয়েছেন তারা। সরকারইবা তাদের অধিকার কতটুকু ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।

প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে দেশের শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছে। দেশের ভেতরে সরকারি ও বেসরকারী উদ্যোগে উল্লেখিত শ্রমশক্তির ৫ লাখের কম সংখ্যক মানুষের জন্য মানসম্মত কাজের সুযোগ থাকলেও বাকি বিপুল সংখ্যক আগ্রহী জনগোষ্ঠির উপযুক্ত চাকুরির ব্যবস্থা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

সরকার জনশক্তি রফতানী খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবতা হলো প্রতিবছরই হাজার হাজার শ্রমিক প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসেন। কতজন শ্রমিকের ক্ষেত্রে এমন হয়ে থাকে, তারও কোন পরিসংখ্যান নেই বাংলাদেশ সরকারও দূতাবাসের কাছে।

বিদেশে কাজের জন্য প্রচুর মানুষ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যান। এ বিপুল কর্মশক্তির একটি অংশ আবার বিদেশ থেকে বিভিন্ন কারনে বাংলাদেশে ফেরত আসে। তাছাড়া এদের মধ্যে অনেকে অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপনের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে দেশে ফেরত আসেন। আবার অনেকে মারাও যান।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মেন্তারি কোর্ট এলাকায় জামাল (২৮) নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় কোম্পানীর মালিক বাদী হয়ে মামলা করলেও এখনও তার সঠিক কোনো উদঘাটন করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। জামালের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। কে থামাবে জামালের পরিবারের কান্না?

লিজা বেগম (২৬) তিনি বছর খানেক আগে স্থানীয় দালালের হাত ধরে ট্যুরিষ্ট ভিসায় কাজের জন্য গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। পাঁচ মাসের মাথায় নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে ফিরে আসেন তিনি। মালয়েশিয়া থেকে এক কাপড়েই ফিরতে হয়েছে তাকে।

আরও পড়ুন... গুণীজনের ১০০ বাণী , যা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে