বুধবার, ২৬শে জুন, ২০১৯ ইং। ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। রাত ১২:৩১








প্রচ্ছদ » শিল্প সাহিত্য

বইমেলায় আসছে মালিহা তাবাসসুম এর উপন্যাস ‘বৃত্তবন্দি’

শিল্প সাহিত্য ডেস্ক, মোড়ল নিউজঃ বই মেলা প্রানের মেলা। পাঠক লেখকদের সমারোহে যেন এক নতুন প্রাণ সৃষ্টি হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।   এ বছরের বই মেলায় আসছে তরুণ লেখিকা মালিহা তাবাসসুম এর প্রথম উপন্যাস “বৃত্তবন্দি” । “বৃত্তবন্দি” উপন্যাসটি মনস্তাত্ত্বিক রোমান্টিক রহস্য নিয়ে লেখা। বইটি প্রকাশ করছে দেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা অন্বেষা। বইটি পাওয়া যাবে একুশে বইমেলার (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১৮ নম্বর প্যাভিলিয়নে। এছাড়াও বইটি পাওয়া যাবে রকমারি, বইপোকাসহ দেশের সকল অনলাইন শপে।

মালিহা তাবাসসুম ও তার বই নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা অন্বেষার কর্ণধার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, মালিহা তাবাসসুম লেখক হিসেবে একেবারে নতুন হলেও দক্ষতায় পুরনো। প্রথম উপন্যাস হিসেবে লেখার গাঁথুনি অত্যন্ত মজবুত। মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হবার সুবাদে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো অনেক নিখুত ভাবে তুলে এনেছে উপন্যাসে। রহ্স্য বা গোয়েন্দা আবরণে বিদ্যমান এ উপন্যাস পাঠকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। নিয়মিত লিখলে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা রয়েছে। অন্বেষা প্রকাশন প্রতিবছর নতুন লেখকের বাছাইকৃত পাণ্ডুলিপি থেকে বই প্রকাশে উদ্যোগ নেয়। মালিহা তাবাসসুম তার লেখনির মাধ্যমে তা জয় করতে পেরেছে। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

বইটি নিয়ে লেখিকা মালিহা তাবাসসুম খুবই আশাবাদী। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করেছি পাঠকের মাঝে ভালো কিছু দেওয়ার। আশা করি বইটি পড়ে ভালো লাগবে।’ বই নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, বই নিয়ে পাঠকের মাঝে সবসময় বেঁচে থাকতে চাই। আশা করি এখন থেকে প্রতি বছরই অন্তত একটি করে বই থাকবে বইমেলায়।

বইটির প্লট সম্পর্কে দুটি কথাঃ

প্রান্তি- অসম্ভব প্রাণবন্ত একটি মেয়ে। জীবনকে দেখতে শিখেছে একটু অন্যভাবে। পড়াশুনা,লেখালেখি,গান,বন্ধুবান্ধব-সবাইকে নিয়ে দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল বেশ। হঠাৎ একদিন প্রান্তির জীবনের চিরচেনা সমীকরণ পলকেই পাল্টে গেলো। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এন এস আই এর একজন এজেন্ট হিসেবে দেশে হতে যাওয়া এক সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার দায়িত্ব এসে পড়ল প্রান্তির কাঁধে। এক সন্ত্রাসবাদীর জীবনের সাথে নিজের জীবন জড়াতে বাধ্য হল প্রান্তি। এক অভিনব চিত্রনাট্য অনুযায়ী সেই সন্ত্রাসবাদীর সাথে প্রতি মুহূর্তে ভালোবাসার অভিনয় করতে লাগল। উদ্দেশ্য হামলা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ! এরপর থেকেই সমান্তরাল দুই পৃথিবীতে বসবাস ওর। দ্বিতীয় জগতের প্রতি মুহূর্ত কাটে অনিশ্চয়তায়-‘এই বুঝি ধরা পড়ে যাব’। প্রতি পদক্ষেপে ধূসর মৃত্যুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনেক রহস্যের জট খোলে প্রান্তি। লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি যেতেই ঘটলো অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। প্রান্তি বুঝতে পারল ও আসলে এক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছে। মুক্তি কি আছে ওর?

রহস্যের সমাধানটুকু জানতে হলে পড়তে হবে পুরো বইটি।

এক নজরে মালিহা তাবাসসুমঃ
মালিহা তাবাসসুমের জন্ম ১৯৯৯ সালের ১৯ শে নভেম্বর,ধানমণ্ডিতে। বেড়ে ওঠাও ঢাকাতেই-খিলগাঁও আর মতিঝিল এলাকায়। পড়েছেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে। খুব ছোটবেলা থেকেই মাথার ব্যান্ড দিয়ে স্টেথেস্কোপ বানিয়ে মিথ্যেমিথ্যি হার্টবিট দেখতে দেখতে কীভাবে কীভাবে যেন ‘চিকিৎসক হবো’-স্বপ্নটির বীজ প্রোথিত হয়ে যায় ছোট্ট বুকে। এইচএসসির পাট চুকিয়ে তাই নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেলেন আরও এক পা। ভর্তি হলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। পড়ছেন তৃতীয় বর্ষে। আইটেম,কার্ড,প্রফের নীরস ভুবনের অমানুষিক পরিশ্রমের মাঝেও মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেবার এক চিলতে অবকাশটুকু বের করতে বরাবরই ভালোবাসেন তিনি।

সাহিত্যানুরাগ খুব ছোটবেলা থেকেই। স্কুল কলেজের ম্যাগাজিনে গল্প-কবিতা লেখার মাধ্যমেই লেখালেখির হাতেখড়ি। নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াকালে ছোটগল্প-কবিতা লিখেছেন প্রথম আলো,সমকাল,নয়া দিগন্ত সহ বেশ কিছু দৈনিক পত্রিকায়। তবে উপন্যাসের মাধ্যমে সাহিত্যের সুবিশাল প্রাঙ্গনে পা রাখার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। পাশাপাশি রেডিওতে প্রায়ই গান করেন। বেশ কিছু টিভি চ্যানেলে ডাবিং আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করছেন সম্প্রতি। নজরুল একাডেমী থেকে জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত আর কবিতা আবৃত্তিতে প্রথম পুরস্কার। একজন সুচিকিৎসক হবার পাশাপাশি শিল্প সাহিত্যের অঙ্গনে নিজের মেধা আর প্রতিভার দীপ্তি ছড়িয়ে দেবার স্বপ্নকে লালন করেন অন্তর জুড়ে। বেঁচে থাকতে হয়,বর্তে যেতে হয় বলে বেঁচে থাকা নয়,এক অর্থবহ যাপিত জীবনের আস্বাদ চান। নিজের কর্ম দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকা-জীবন থেকে চাওয়াটুকু বেশি নয়।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...