বুধবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৯ ইং। ১৩ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। রাত ৩:০৩








প্রচ্ছদ » প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় প্রবাসী দুই বাংলাদেশির ওপর হামলা!

প্রবাস মানেই কি নিঃসঙ্গতা? একাকিত্ব? নাকি প্রবাস মানেই হাড়ভাঙা পরিশ্রম। কেমন কাটে প্রবাসজীবন? কেউ বলে মলিন নয়তো ফ্যাকাশে। কেউ বলে পানসে। কারও কাছে রোমাঞ্চকর, অতিমাত্রায় স্বাধীনতা। কারও কাছে জীবনের সোনালি অধ্যায়ের যাত্রা শুরু। কেউ ভাবছে, এই তো চলছি সোনার হরিণের পেছনে। আবার কেউ ফেলে দীর্ঘনিঃশ্বাস।

এদিকে আজ উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় বিদ্বেষপ্রসূত (হেট ক্রাইম) হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। তারা হলেন, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বরুণ চক্রবর্তী (৫২) ও কানাডার অটোয়ায় সুলতানা চৌধুরী (৫০)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বরুণ চক্রবর্তী ব্রুকলিন-ম্যানহাটন ডি ট্রেন সাবওয়েতে বিদ্বেষপ্রসূত হামলার শিকার হন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্প্যানিশ এক তরুণ তার ওপর হামলা চালায়। তার নাক-মুখ ও মাথায় আঘাত করা হয়। তবে এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত।

বরুণের ভাই বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সোয়া ৫টার দিকে কাজ থেকে বাসায় ফেরার পথে ডি ট্রেনে বরুণের পাশের আসনে স্প্যানিশ এক তরুণ বসেছিল। ওই তরুণ প্রথমে তাকে মুসলিম কি না, তা জানতে চায়। এ সময় বরুণ না সূচক জবাব দিয়ে কমলা খেতে থাকলে তরুণটি তার কমলায় থুতু ফেলে।

কনুই ও পা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। বরুণ এমন আচরণ করার কারণ জানতে চাইলে ওই তরুণ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তার নাকেমুখে ও মাথায় ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আসন ছেড়ে বরুণ ট্রেনের কম্পার্টমেন্টের এক প্রান্ত থেকে দৌড়ে অন্য প্রান্তে গিয়ে যাত্রীদের সাহায্য চাইতে থাকেন। সেখানেও তার ওপর হামলা করা হয়।

পরে পুলিশ এসে ডি ট্রেনের গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ থেকে বরুণকে উদ্ধার করে ম্যানহাটনের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। এমটিএর কর্মচারী ও পুলিশের সহযোগিতায় সিটি পুলিশ হামলাকারী তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর রাত ৩টার দিকে তিনি ম্যানহাটনের বাসায় ফিরে যান।

অন্যদিকে, কানাডার অটোয়ায় রাইডাউ শপিং মলের বের হওয়ার ফটকে সম্প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত হামলার শিকার হন বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক সুলতানা চৌধুরী (৫০)। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এডমন্টন সিটির নর্থগেট সেন্টারে বাংলাদেশ কানাডা হেরিটেজ সোসাইটি অব অ্যাডমন্টন প্রতিবাদ সভা করেছে।

হামলাকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানাকে দূর থেকে অনুসরণ করছিলেন। পরে কাছাকাছি এসে কনুই দিয়ে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেয়। সুলতানার মাথায় হিজাব থাকার কারণে তার ওপর এই আক্রমণ হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যেরা মনে করছেন। সুলতানার বাম হাতের কয়েক জায়গায় হাড় ভেঙে গেছে। জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার হাতে প্লাস্টার করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। তাই এতে বুঝতে কারও কষ্ট হয় না, প্রবাসী মানে হাড়ভাঙা পরিশ্রমী একদল খেটে খাওয়া মানুষ।

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...