বুধবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৯ ইং। ১৩ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। রাত ২:০৮








প্রচ্ছদ » শিশুর স্বাস্থ্য

অর্থের অভাবে থেমে গেছে `বৃক্ষশিশু’ রিপনের চিকিৎসা

রিপন রায় নামের একটি ছেলে বয়স মাত্র এগার। তবে তার পরিচিতি হয়ে উঠেছে ‘বৃক্ষশিশু’।  জন্মের ৩ মাস পর হাতে পায়ে গুটি বসন্তের মতো আচিঁল দেখা দেয় রিপনের। বয়স বাড়ার সাথে সাথে গুটির মতো আচিঁলগুলোও বাড়তে থাকে। রিপনের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কেটগাঁও গ্রামে।

স্থানীয় চিকিৎসকদের ঔষুধেও কাজ না হলে পাশ্ববর্তী জেলা দিনাজপুর ও রংপুরের ডাক্তারের শরণাপন্ন হয় রিপনের পরিবার। দীর্ঘ ৬ বছর ঔষুধ খেয়েও উন্নতি দেখা দেয় না, বরং হাতে-পায়ের আচিঁলগুলো গাছের শিকড়ের মতো আকার ধারণ করতে শুরু করে। কিন্তু টাকা অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না জুতা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত রিপনের বাবা মহেন্দ্র।

পরে স্থানীয় এক সাংবাদিক রিপনকে নিয়ে সংবাদ করলে জেলা প্রশাসনসহ অনেকেই রিপনের চিকিৎসার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। পরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রিপনকে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে রিপনের হাতে পায়ে তিন বার সফল অপারেশন করা হয়েছে।

চিকিৎসা চলছিল রিপনের। কিন্তু অভাবের কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৬ মাস ধরে সে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতেই অবস্থান করছে। পুরোপুরি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে পড়ায় হাতে-পায়ের সেই রোগ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

তার মা গোলাপী রাণী বলেন, ‘বাড়িতে আসার প্রায় ৬ মাস হয়ে গেল। ঢাকার হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে আসছিলাম। পরে আর যাইনি। রিপনও যাইতে চায় না। প্রথম প্রথম ভালোই চিকিৎসা করাচ্ছিল। পরে আর চিকিৎসা করে না। শুধু আমাদের বসাই রাখে। আমাদের মতো গরীব মানুষের পক্ষে তো এইসব খরচ চালানো সম্ভব না। রিপনের বাবা এখন সংসার চালাবে? না ঢাকায় টাকা দিবে? তাই বাড়ি চলে আসছি। ছেলেটা পুরোপুরি সুস্থ হলে তো ভালোই লাগতো। টাকা থাকলে হাসপাতালে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত থেকে যেতাম।’

বাড়ির আসার পর গত ছয় মাসে আবারও আগের মতো হাতে-পায়ের রোগ বেড়ে গেছে বলে জানান গোলাপী রাণী।

বাড়িতে এসে নতুন বছরে আবারও কেটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে রিপন। তার স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, একটি বেঞ্চে একাই বসে ক্লাস করছে সে। রিপন বলে, ‘আমার হাতে-পায়ের রোগের জন্য আমার পাশে কেউ বসতে চায় না। সব বন্ধুরা ভয় পায়। মাঝে মাঝে আমার হাত-পা থেকে এখন দুর্গন্ধও বের হচ্ছে। হাসপাতালে থাকতে আমার মন চায় না। আমি লেখাপড়া করতে চাই। হাসপাতালে শুধু শুয়ে শুয়ে থাকতে হয়।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সতীশ চন্দ্র রায় বলেন,‘অনেক বাচ্চা ভয় পায় রিপনের রোগ দেখে। তারপরও আমি অন্য বাচ্চাদের ওর সাথে মিশতে বলি। আমার বিশ্বাস, সে যদি পুরোপুরি চিকিৎসা শেষ করতে পারে তাহলে সুস্থ হয়ে যেতে পারে। পড়াশোনায় রিপন ভালো ছাত্র। তাই সরকারের উচিত রিপনের চিকিৎসায় এগিয়ে এসে তাঁকে সুস্থ-সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া।’

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...