বুধবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৯ ইং। ১৩ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। রাত ২:০৭








প্রচ্ছদ » সারাদেশ

পুরস্কার নিতে এসে প্রধানমন্ত্রীকেই পুরস্কৃত করলো ছোট্ট পিয়াসা

টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিয়াসা সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নিতে এসে উল্টো তাকেই পুরস্কৃত করে গেল।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো: আশরাফুল আলম খোকন জানান, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছোট্ট পিয়াসার ছবি আঁকার হাত খুবই ভালো। সে ছবি আঁকাতে জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারও পেয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বপ্নের মানুষ। গত আড়াই মাস ধরে চেষ্টা করে পিয়াসা বঙ্গবন্ধু কন্যার একটি পোট্রেট আঁকে।

পিয়াসার মা তাপসী রানী সরকার জানান, মেয়েটা অনেক পরিশ্রম করেছে। মুখ মেলে তো চোখ মেলে না, চুল মেলে তো ভ্রু মেলে না। অবশেষে আড়াই মাস ধরে চেষ্টার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে পিয়াসার সন্তুষ্টি আসে। উদ্দেশ্য একটাই, যেকোনো ভাবেই হোক এ ছবিটি সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবে। তার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পিয়াসা তার আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছে।

আশরাফুল আলম খোকন জানান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ছবিটি নিয়ে তিনদিন আগে তারা ঢাকায় আসে। শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য মোট ১০৮ জনকে এ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হবে, পিয়াসা সেই ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। গত দুই দিন তারা অনেক চেষ্টা করেও ছবিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়ার কোনো সুযোগ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা বিভাগ থেকেও বলে দেয়া হয় অতিরিক্ত কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করা যাবে না।

এদিকে পুরোপুরি হতাশ হয়েই বুধবার (১৩ মার্চ) মাকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে পিয়াসা। কাগজে মোড়ানো ছবিটি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন বাবা শংকর চন্দ্র সরকার। মা-মেয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হলেই তারা ছবিটি সঙ্গে করে নিয়েই টাঙ্গাইল চলে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর আশঅ হত হতে হয়নি ছোট পিয়াসাকে।

১১ বছর বয়সী যেই শিশুটির স্বপ্নের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, শিশুটির সাহস নিশ্চয়ই কম নয়। পুরস্কার নেওয়ার জন্য যথারীতি নাম ডাকা হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গিয়ে পুরস্কার নেয় জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিয়াসা সরকার। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিশুসুলভ আন্তরিকতায় আরও সাহসী হয়ে ওঠে পিয়াসা। সে সময় বলেই ফেলে তার আঁকা ছবিটির কথা এবং সঙ্গে কান্না করে দেয়। তাকে যে ছবিটি আনতে দেয়া হয়নি সেটিও বলতে ভুলেনি। সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ছবিটি নিয়ে আসার জন্য। তৎপর হয়ে ওঠেন সবাই। পিয়াসার কাছ থেকে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে তারা যোগাযোগ করেন। বাইরে ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে ভেতরে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মমতায় আঁকা পোট্রেটটি তুলে দেয় পিয়াসা। এভাবেই বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয় পিয়াসার।

খোকন আরও বলেন, এরপর বিকেলে যখন পিয়াসার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ততক্ষণে তারা টাঙ্গাইল চলে গেছেন। তারা জানালেন, স্বপ্ন পূরণের আনন্দ আর খুশিতে তখন কাঁদছিল ছোট্ট শিশু পিয়াসা।

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...