বুধবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৯ ইং। ১৩ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। রাত ২:১৯








প্রচ্ছদ » রাজনীতি

বিএনপির সঙ্গে গণফোরামের টানাপোড়েনের শুরু!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামালের নেতৃত্বে জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হিসেবে মাঠে ছিল বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য। সেই নির্বাচনে ভরাডুবির পর নতুন সরকারের দুই মাসও পেরিয়ে গেছে। তবু এখনও পুনঃনির্বাচনের আন্দোলন করে যাচ্ছে।

তবে নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণসহ কিছু কারণে জোটের শীর্ষ দল বিএনপি’র সঙ্গে ড. কামালের গণফোরামের সম্পর্কে খানিকটা ভাটার টান দেখা যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছ। বিশেষ করে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান মনসুরের শপথকে ঘিরে দুই দলের দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক সূত্র।

গণফোরামের নেতারা জানান, আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ঘিরে আয়োজনে জোটের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। এসময় শোডাউনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেসময় মোকাব্বির খানের শপথের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। ড. কামাল এ বিষয়ে নমনীয় বলেই জানান নেতারা।

এছাড়া, আগামী এপ্রিল মাসে ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় জেলা শহর ও উপজেলাতে গণশুনানি বা মতবিনিময় সভার আয়োজন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন এসব আয়োজনে। মার্চ ও এপ্রিলের এসব আয়োজনেই বিএনপির সঙ্গে গণফোরামের দূরত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

গণফোরামের যুগ্ম-সাধারণ ও সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা বিএনপির সঙ্গে গণফোরামের কৌশলগত সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন। তাদের মতে, কৌশলগত কারণে মূলত নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। ওই সময় দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক মতবিরোধ থাকলেও নির্বাচন সামনে রেখে সেগুলো আড়াল করা হয়েছিল। নির্বাচনে ভরাডুবি এসব মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে।

এছাড়া, গণফোরামের সুলতান মনসুরের শপথ নেওয়া ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে বর্তমানে জোটের প্রধান দল বিএনপির সঙ্গে গণফোরামের দূরত্ব বেড়েছে। যদিও দুই দলের শীর্ষ নেতারা সেই দূরত্বকে এখনও আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তবে দলের মধ্য সারির নেতাদের চোখে এই দূরত্ব প্রকট হয়েছে। তারা বলছেন, আগামী ২৬ মার্চে জোটের কর্মসূচি পালনের সময়ই বোঝা যাবে, এই বিভেদ আসলে কতটা!

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেকার মতবিরোধ এখনও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি। তবে মাঝারি সারির সাংগঠনিক নেতাদের মধ্যে তা প্রকাশ পেয়েছে। যেকোনো বিষয়ে সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গঠনের সময়ের কথা উল্লেখ করে মন্টু বলেন, গণফোরাম জোট করতে এগিয়ে না এলে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে লড়াই-ই করতে পারত না। তখন বিএনপির অবস্থা কী হতো! এখন তো অন্তত বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছে, সরকারি দল কারচুপি করে জিতেছে।

গণফোরাম থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত পরে হবে।’

বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলে সে বিষয়ে গণফোরামের ভূমিকা কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্টু বলেন, বিএনপি শপথ নিতে গেল কি না, তা আমরা ভাবি না। আমাদের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। বিএনপি সঙ্গে কোনো বিষয়ে সমঝোতা না হলেও গণফোরাম নিজস্ব নীতি ও আদর্শে অনড় থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, এপ্রিলে মতবিনিময় সভাসহ আমরা মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে, গত ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। ওইদিন তার সঙ্গে মোকাব্বির খানেরও শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পিছু হটেন তিনি। ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয় জনও এখনও শপথ নেননি।

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...