বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং। ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। রাত ১০:৩৯








প্রচ্ছদ » সারাদেশ

আমারে মাইরো না, আমি রাজনীতি করি না আমি সাংবাদিক, কিন্তু তারপরও…

আমারে মাইরো না, আমি রাজনীতি করি না। আমি সাংবাদিক। আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি করি নাই।’ সন্ত্রাসীদের হামলার সময় এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন মাই টিভির সাংবাদিক এস এম সোহেল রানা। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়। তার মৃত্যু হয়েছে ভেবে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রোববার রাতে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিনের বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা লুটপাট ও হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সাংবাদিক সোহেল রানা ওই রাস্তা দিয়ে ফিরছিলেন। সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র মহড়ার দৃশ্য দেখে তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়ান এবং মোবাইল ফোনে সেগুলো ধারণ করতে থাকেন। সন্ত্রাসীরা ভিডিও করার ব্যাপারটি দেখে ফেলে এবং তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী আমান উল্লাহ ফরাজী জানান, তিনি দূর থেকে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যান এবং সাংবাদিক সোহেলকে মারধর না করার জন্য সন্ত্রাসীদের পায়ে লুটিয়ে পড়েন। সোহেল জানান, ছাত্রলীগের নেতা ফাহিম খন্দকারের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী মোটরসাইকেল নিয়ে জাহিদুল আলম রবিনের বাড়িতে হামলা চালানোর জন্য মহড়া দিতে থাকে। তিনি সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করার সময় ফাহিম খন্দকার দেখে ফেলে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মাটিতে ফেলে রেখে মোবাইল ফোনটি নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাওনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে এবং ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন করার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ফাহিম খন্দকার বাড়িতে হামলা করতে আসে বলে অভিযোগ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন। সাংবাদিক সোহেলের ওপর হামলার খবর পেয়ে রাতেই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তাকে দেখতে যান। হামলায় জড়িতদের অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে বলে এসপি সাংবাদিক সোহেলের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। এরই মধ্যে তিনি সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে অতিদ্রুত গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।শ্রীপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকটি সহিংস ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একেএম ইয়াহিয়া আরিফ, রাহাত হোসেন, ফাহিম খন্দকার, রাকিব, সোহেল রানাসহ ৫২ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে। ইতিমধ্যে সাংবাদিক সোহেলের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩০ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...