মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং। ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। দুপুর ২:৩৮








প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

প্রভুভক্ত কুকুর বাঁচিয়ে দিলো পুরো একটি পরিবার!

কুকুরের প্রভুভক্তি নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, গৃহপালিত পশুর মধ্যে কুকুর মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু।  মনিবের প্রতি কুকুরের ভালবাসা নানা সময়ে বিবেক নাড়া দেয়। কুকুর যে আসলেই প্রভুভক্ত, তার আরেকটি প্রমাণ পাওয়া গেল আমেরিকাতে। মনিবের পুরো পরিবারকে রক্ষা করে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার এক ঘটনার জম্ম দিয়েছেন প্রভুভক্ত এই প্রাণীটি। কুকুরের কারণেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান পরিবারের সবাই।

গত শুক্রবার মার্কিন এক নাগরিকের বাড়িতে আগুন লাগে। ওই ঘটে বর্ণনায় টুইট করেন বাড়ির মালিক। তিনি লেখেন, গত শুক্রবার রাতে তার স্ত্রী ও সন্তানরা বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল, মধ্যরাতে তার কুকুরটি খুব জোরে ডাকতে শুরু করে। কেন এত জোরে চিৎকার করছে তা দেখতে ওই ব্যক্তি তার শোয়ার ঘরে প্রবেশ করেন।

খুব ভয়ে ভয়ে বারান্দায় যান তিনি। এরপর ঘরের এক কোন থেকে আড়ালে তিনি কমলা রঙের উজ্জ্বল কিছু জ্বলজ্বল এবং শব্দ করছিল-এমন কিছু দেখতে পান। আমেরিকান নাগরিক ওলাইসেস এস কুকম্যান আগুন লাগার ওই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেখা টুইট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় কুকুরটিকে ‘গোল্ডেন রিট্রাইভার’ অ্যাখা দিয়ে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।

টুইটারে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘সেদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পর মধ্যরাতে শোয়ার কক্ষে হাঙ্ক (কুকুর) প্রচণ্ড জোরে ডাকাডাকি করছিল। তখন আমার স্ত্রী এবং বাচ্চারা ঘুমিয়েছিল। আমি তখন অন্য কক্ষে মুভি দেখা শেষ করেছিমাত্র। কিন্তু হাঙ্ক কোনোভাবেই তার ডাকাডাকি থামাচ্ছিল না। এরপর আমি বিছানা থেকে নেমে শোয়ার কক্ষে গেলাম এবং তাকে (হাঙ্ক) থামানোর চেষ্টা করলাম। এরপর যতদ্রুত সম্ভব আমি বাড়ির কর্ণারে গেলাম। কামরায় প্রবেশ করে সেখান থেকে উজ্বল কমলা রঙের কিছু দেখতে পাই।’

টুইটারে ঘটনাটি বর্ণনা করার সময় গর্বিত ওই মনিব কুকুরের ছয় বছরের আগের একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি হাঙ্ক সম্পর্কে আপনাদের একটি গল্প বলতে চাই। আমি জানি আপনারা এটাকে একটা খুবই ভালো ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করবেন।’ ডেইলি মেইল-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন নাগরিক বলেন, সেখানে বড় ধরনের কোনো একটি কাঠ এবং পেইন্ট জাতীয় কিছু পুঁড়ছিল। ঈশ্বর ভালো জানেন, সেখানে আসলে আর কী কী ঘটেছিল। উজ্জ্বল কমলা রঙের ওই আলো থেকে কিছুক্ষণ পর দেখি আগুনের ধোয়া জাতীয় কিছু খুব দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।’

এই ব্যক্তি বলেন, ‘এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর আমরা প্রত্যেকে হাঙ্কের চিৎকারের ঘটনায় বিষয়টি জানতে পারি এবং আমি ও আমার পরিবার বাড়িতে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করি। পাশের প্রতিবেশীরা আগুনের বিষয়টি দেখতে পেয়ে টর্চ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর আমি ও আমার পরিবার এবং কুকুর নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসি। আমার স্ত্রী গতকাল আমাকে স্মরণ করিয়ে দেন হাঙ্ক ছয় বছর আগে তার নতুন জুতার একটি স্লিপার খেয়ে ফেলেন, সেখান থেকে সে অপরাধ বিষয়ক কোনো কিছু হলে বুঝতে পারে।’

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...