মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং। ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। দুপুর ২:১৮








প্রচ্ছদ » ক্রাইম ওয়ার্ল্ড

অর্ধ কোটি টাকার সরকারি ঔষধ মাত্র ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি! (ভিডিওসহ)

আমাদের এই বাংলাদেশে আজব সব ধরণের ঘটনার খবর পাওয়া যায়। যার সকল খবর আমাদের কাছে না এলেও কিছু কিছু ঘটনা আমাদের কাছে চলে আসে মিডিয়ার কল্যাণে। তেমনি এবারের ঘটনাটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। মানুষের বিবেকের কাছে জানতে চাইলেও আসলে লজ্জা হওয়ার কথা। কিন্তু এমনোও কিছু লোক আমাদের এই আজব দেশে রয়েছেন যে তারা এই সকল কাজ করতেও নিজেকে অপরাধী মনে করেনা।

আর সেই সুত্র ধরে  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যরে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (৩১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে শহরের মফিজ পাগলার মোড় এলাকার একটি ভবনের গুদামে এই অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের মফিজ পাগলার মোড় এলাকার একটি ভবনের তিনটি ফ্লোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সরকারি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, স্যালাইন, ইনজেকশন, অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত ওষুধ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এঘটনায় রবিন ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের মালিক মিজানুর রহমান কে আটক করা হয়েছে। মিজানুর জালিয়াতির মাধ্যমে এই ওষুধগুলো কেনার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানায় পুলিশ।

রোববার সরেজমিনে ঐ ভবনে ঘুরে দেখা যায়, ভবনের দোতলার সিঁড়িতে ওষুধের কার্টুন, প্লাস্টিকের বিভিন্ন কনটেইনার পড়ে আছে। ভবনের তৃতীয় তলায় দেখা গেছে কয়েক হাজার ওষুধের বাক্স। মেঝেতে পড়ে আছে শত শত ওষুধের পাতা, অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত ওষুধ ও সরঞ্জাম। প্রায় পাঁচ’শ স্কয়ার ফিটের জায়গায় লাখ লাখ টাকার সরকারি ওষুধ মজুত রাখা হয়েছে। একই অবস্থা ওই ভবনের চারতলা ও পাঁচ তলায়। ওষুধের চাপে পা ফেলার জায়গা নেই।

কোথায় এই ওষুধ পেলেন জানতে চাইলে মিজানুর রহমান জানান, সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের স্টোরকিপার ও সাপ্লাইয়ারের কাছ থেকে কিনেছেন। তিনি এই ওষুধগুলো মাত্র ৯০ হাজার টাকায় এনেছেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রচুর পরিমাণ সরকারি ওষুধ রয়েছে। এগুলো জব্দ করার কাজ চলছে। ওষুধ কোম্পানির কোনো প্রতিনিধিকে দেখিয়ে ওষুধের প্রকৃত দাম নির্ধারণ করা হবে।

জানতে চাইলে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এবং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সামির হোসেন বলেন, কোনো ঠিকাদারের যোগসাজশে ওষুধগুলো অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বগুড়া সদর থানার ওসি বদিউজ্জামান জানান, আটক মিজানুর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে এই ওষুধগুলো কম দামে ক্রয় করার কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওষুধের আনুমানিক মূল্য কত হবে জানতে চাইলে ওসি জানান, ওষুধ গুলোর মূল্য আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা হবে।

সুত্রঃ বিডি২৪লাইভ

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...