বৃহস্পতিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং। ৯ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। রাত ৩:৫৬








প্রচ্ছদ » আইন ও আদালত

এবার যাত্রাবাড়ী থানার ওসি ও ২ এসআই হলেন ধর্ষণ মামলার আসামি

আমাদের এই বাংলাদেশে আজব সব ধরণের ঘটনার খবর পাওয়া যায়। যার সকল খবর আমাদের কাছে না এলেও কিছু কিছু ঘটনা আমাদের কাছে চলে আসে মিডিয়ার কল্যাণে। তেমনি এবারের ঘটনাটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। মানুষের বিবেকের কাছে জানতে চাইলেও আসলে লজ্জা হওয়ার কথা। কিন্তু এমনোও কিছু লোক আমাদের এই আজব দেশে রয়েছেন যে তারা এই সকল কাজ করতেও নিজেকে অপরাধী মনে করেনা।

এদিকে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ওসি ও দুই এসআইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। বৃহস্পতিবার ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন।

আসামিদের মধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী মিয়া, এসআই আ স ম মাহমুদুল হাসান ও মোছা. লাইজু।

এছাড়া বাকি আটজন হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম রনি, মো. সাগর, মো. শামীম, মো. আলাউদ্দিন দেলোয়ার হোসেন, মো. হানিফ, মো. স্বপন, বিলকিস আক্তার শিলা ও ফারজানা আক্তার শশি।

মামলার এজাহারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারার অপহরণ এবং ৯(৩) ধারায় গণধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বর্ণনায় ওসি এবং দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং গণধর্ষণের কোনো অভিযোগ নেই। মামলা না নিতে চাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ভিকটিম দুই সন্তানের জননী তালাকপ্রাপ্ত হওয়ায় অভাব-অনটনের কারণে কাজের সন্ধান করেন। পূর্বপরিচিত আসামি শফিকুল ইসলাম রনি বাদীকে গত ১২ মার্চ অনলাইনে থ্রি-পিস ও শাড়ি কেনা-বেচার একটি প্রতিষ্ঠানে কমিশনে চাকরি দেয়ার কথা বলে করাতিটোলা ফারজানা আক্তার শশি ও বিলকিস আক্তারের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়।

এরপর তাদের সহযোগিতায় বাড়ির মালিকের ছেলে আসামি স্বপন তাকে ধর্ষণ করেন। বাদী ডাক-চিৎকার দিলে আসামি শশি ও শিলা তার গলায় বটি ঠেকিয়ে মেরে ফেলার এবং ধর্ষণের ভিডিও ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এরপর জীবন, বিপ্লব, হানিফ, সাগর ও আলাউদ্দিন বাদীকে মারধর ও বিবস্ত্র করে। তারাসহ আরো ১০-১২ জন ইয়াবা সেবন করে বাদীকে ধর্ষণ করে।

ওই ঘটনায় বাদী থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে মামলা নিতে অস্বীকার করে পুলিশ। এরপর এসআই লাইজু বাদিনীকে প্রস্তাব দেন ওসি ওয়াজেদ, এসআই প্রদীপ কুমার ও আয়ান মামুদকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দিলে ধর্ষণের মামলা হবে। না দিলে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হবে।

পরে গত ১৮ মার্চ ঘুষের টাকা না দিতে পারায় বাদীকে যৌনকর্মী সাজিয়ে আসামি শিলা ও শশিসহ আদালতে পাঠান ওসি ওয়াজেদ, এসআই, মাহমুদুল হাসান ও লাইজু। বাদীকে যৌনকর্মী সাজিয়ে আদালতে পাঠানো হলে ধর্ষণের ঘটনা চাপা পড়ে যায়। ওই ঘটনায় বাদী নারী শিশু ট্রাইব্যাল এ মামলাটি দায়ের করেন।

সুত্রঃ বাংলা নিউজ।

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...