সোমবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং। ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। সকাল ১১:১৪








প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

মসজিদ ‌গুঁড়িয়ে দিচ্ছে চীন, রুখে দাঁড়াতে চান যুক্তরাষ্ট্রের এমপি

মসজিদ মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থাপনা। শব্দটির উৎপত্তি আরবি “السجود” থেকে, যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করা। সাধারণভাবে, যেসব ইমারত বা স্থাপনায় মুসলমানেরা একত্র হয়ে প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (আরবি: صلاة‎‎ সালাত) আদায় করেন, তাকে মসজিদ বলে।

আবার যেসব বড় আকারের মসজিদগুলো নিয়মিত নামাজের সাথে সাথে শুক্রবারের জুম’আর নামাজ আদায় হয় এবং অন্যান্য ইসলামিক কার্যাবলী (যেমন: কোরআন শিক্ষা দেওয়া) সম্পাদিত হয়, সেগুলো জামে মসজিদ (مسجد جامع) নামে অভিহিত।মসজিদে সাধারণত একজন ইমাম বা নেতা থাকেন যিনি নামাজের ইমামতি করেন বা নেতৃত্ব দেন।

মসজিদ মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাবলীর প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রার্থণা করা ছাড়াও শিক্ষা প্রদান, তথ্য বিতর়ণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

মসজিদের উৎকর্ষের ক্ষেত্রে, সেই সপ্তম শতাব্দির সাদাসিধে খোলা প্রাঙ্গনবিশিষ্ট মসজিদে কাবা বা মসজিদে নববী থেকে বর্তমানে এর প্রভূত উন্নয়ন ঘটেছে। এখন অনেক মসজিদেরই সুবিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার এবং বৃহদাকার প্রাঙ্গন দেখা যায়। মসজিদের উৎপত্তি আরব উপদ্বীপে হলেও বর্তমানে তা পৃথিবীর সব দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।

তেমনি  চীনের জাতীয় স্থাপনার মধ্যে অন্যতম এবং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মসজিদ  গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেছে চীন। তবে এ নিয়ে প্রতিক্রীয়া দেখাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের এক ছাত্র গত মঙ্গলবার চীনের ঝেঝিয়াং প্রদেশের কেরিয়া আইতিকা মসজিদের ব্যাপারে জানতে চেয়ে টুইট বার্তায় লেখেন, ‘এই মসজিদটি কোথায় গেল?’

শতবর্ষ পুরনো ওই মসজিদ। সরকারিভাবে মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা থাকলেও গত বছরের শেষের দিকে রাজ্য পরিষদের সম্মতিতেই ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মসজিদটি ভেঙে ফেলার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে। এমনকি স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতেও দেখা যাচ্ছে, সেই জায়গা থেকে মসজিদটি অদৃশ্য হয়ে গেছে। এমনকি কার্গিলিক নামের আরেকটি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ডেমোক্রেটিক একজন সিনেটর জনসম্মুখে দাবি করেন, ঝেঝিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের নির্যাতন থেকে শুরু করে বন্দিশিবিরে ধরে রাখার ব্যাপারে চীন যা শুরু করেছে, সে ব্যাপারে মার্কিন সরকারের দৃশ্যত কিছু করার দরকার। এর অংশ হিসেবে চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে। এছাড়া চীনকে নজরদারি করার যন্ত্রের যোগান বন্ধ এবং চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করা দরকার। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের অযুহাত থাকা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে ঝেঝিয়াং প্রদেশের বন্দিশিবিরের ছবি প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, চেকপোস্ট পার হওয়ার সময় উইঘুর মুসলমানদের ছবি তুলে রাখে সে দেশের পুলিশ। এছাড়া তাদের যোগাযোগের ওপর নজরদারি করা হয় এবং ধর্মীয় বিধান পালনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়। এমনকি মসজিদে সর্বোচ্চ নজরদারি করা হয় এবং কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের জিজ্ঞাসা করা হয়, তাদের বাবা-মা বাড়িতে ধর্মীয় বিধান মেনে চলে কিনা সে ব্যাপারে।

চীনে উইঘুর মুসলমানদের নির্যাতনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহল মোটামুটি ওয়াকিবহাল। তবে এখন পর্যন্ত চীনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মহল কার্যত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। অন্যদিকে বরাবরই উইঘুর মুসলমানদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে চীন। চীনের দাবি, সে দেশে উইঘুরদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবির করা হয়েছে; কোনো ধরনের বন্দিশিবির নেই।

মার্কিন সরকারের রাজ্য, বাণিজ্য ও কোষাগার বিভাগকে এক চিঠিতে সিনেটররা জানান, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ কিংবা অন্যান্য সামগ্রী প্রদান করা মার্কিন সংস্থাগুলোর তালিকা তৈরির জন্য। কারণ, সেসব সহায়তা নিয়েই নজরদারি ও গণহারে ধরপাকড় করে চীন।

ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ‘হাইকভিশন’ ও ‘দাহুয়া’ নামক চীনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওই সিনেটররা জানতে চান, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠান চীনে গণহারে নজরদারি থেকে শুরু করে ধরপাকড়ের প্রযুক্তি সরবরাহে সহযোগিতা করছে কিনা?

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...