বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং। ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। রাত ১০:৪২








প্রচ্ছদ » বিনোদন

টেলি সামাদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যাননি তারা

অভিনয়ের জন্য মন সবসময় টানে। কিন্তু বললেইতো আর ফিরতে পারি না। অনেক প্রস্তাব আসে কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে করতে পারি না। তবে আশাকরি খুব শিগগিরই মাস খানেকের মধ্যে ফিরব। বাংলাদেশের মানুষের কাছে দোয়া চাই যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আবার অভিনয়ে ফিরতে পারি।

অভিনয় ছাড়া বাঁচা আমার পক্ষে অসম্ভব। বেশকিছু ছবিতে অভিনয়ের ব্যপারে কথা হচ্ছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’জীবনের শেষদিকে গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন অভিনেতা টেলি সামাদ। নিয়তি তাকে আর অভিনয়ে ফিরতে দিলো না। সবকিছুর মায়া কাটিয়ে কোনো কিছুতেই আর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।

গত শনিবার (৬ এপ্রিল) বাংলা চলচ্চিত্রের নক্ষত্র শক্তিমান অভিনেতা ও কমেডিয়ান ‘টেলি সামাদ’ ঝরে গেলেন। সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। এই অভিনেতার না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না চলচ্চিত্র পারিবার, সহকর্মীসহ সিনেমাপ্রেমী মানুষ।

রোববার (৭ এপ্রিল) চিরচেনা যায়গা জহির রায়হান কালার ল্যাবের সামনে টেলি সামাদের মরদেহ আনা হয়। জানানো হয় শেষ বারের মত শ্রদ্ধা। এফডিসিতে আর কোনদিন পা রাখবেন না এই খ্যাতিমান অভিনেতা।

তার এই বিদায় বেলায় এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চিত্রনায়ক অমিত হাসান, সম্রাট, অভিনেত্রী অঞ্জনা, ফকির আলমগীর, আলীরাজ, ইলিয়াস কাঞ্চন, নাসরিনসহ আরও অনেকে।

প্রখ্যাত ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকলেও থাকেননি, শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, নিরব, সাইমন, বাপ্পি, আরিফিন শুভ, পপি, মাহিয়া মাহি, নূতন, জয় চৌধুরীসহ আরও অনেক শিল্পীরা।

এ বিষয়ে সুপারস্টার শাকিব খান বলেন, ‘আমাকে তো জানানো হয়নি টেলি সামাদের মরদেহ এফডিসিতে নেয়া হবে। আমি না জানলে যাব কি করে? যারা এই সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের উচিত ছিল আমাকে সময়টা জানানোর। তাহলে অবশ্যই আমি উপস্থিত হতাম। এটা আমি মনে করি সমিতির ব্যর্থতা।’

বাপ্পি চৌধুরী বলেন, ‘আমি টেলি সামাদের মৃত্যুতে শোকাহত। এফডিসিতে জানাজা হবে এমন ম্যাসেজ আমাকে করা হয়েছিল। কিন্তু আগের দিন শুনেছিলাম পারিবারিক কোন কারণে জানাজা হবে না। এমন খবরে আমি বিভ্রান্তির মধ্যে ছিলাম। তাই ওইদিন ঢাকার বাইরে স্যুটিংয়ে গিয়েছিলাম, যখন ফিরেছি ততক্ষণে জানাজা শেষ হয়ে গেছে। আমি দুঃখিত।’

সাইমন বলেন, ‘আমি গতকাল ঢাকার বাইরে ছিলাম। যার কারণে আমি আসতে পারিনি। তবে আমি না আসতে পারলেও বার বার খোঁজ খবর নিয়েছি। আমি জানাজায় অংশ নিতে না পেরে নিজেক অপরাধী মনে হচ্ছে।’

সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সাথে তো এফডিসি থেকে কোন প্রকার যোগাযোগ করা হয়না। বা আমি শিল্পী সমিতির সদস্যও না। আমি আমি আমার ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করেছি টেলি সামাদের মৃত্যুতে।’

নিরব বলেন, ‘আমি ওই সময় ছিলাম মন্ত্রণালয়ে। আমার একটা মিটিং ছিল তাই থাকতে পারিনি।’

জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমি ডাবিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আমি ঘুম থেকে উঠতে পারিনি। যার কারণে আমি এফডিসিতে পৌঁছাতে
পারিনি।’

আরিফিন শুভ বলেন, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকার বাইরে শুটিংয়ে করছি। যার কারণে আমি উপস্থিত থাকতে পারনি। আর আমি থাকা না থাকা নিয়ে কে কি বললো তাতে আমি চিন্তিত না। তাই আমার যায়গা থেকে আমি সমবেদনা জানিয়েছি।’

সুত্রঃ  বিডি২৪লাইভ

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...