বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং। ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। বিকাল ৫:৫১








প্রচ্ছদ » সারাদেশ

অটো চালিয়ে এইচএসসি পাস করে চাকরি নিয়েছিলেন সোহেল! মায়ের আহাজারি

বীরের মৃত্যু নেই। যুগে যুগে পৃথিবীর বুকে তারা চিরভাস্বর হয়ে থাকেন। তেমনি একজন হলেন- বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের সোহেল রানা। রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী সোহেল রানার মৃত্যুতেকিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সোহেলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। প্রিয় সন্তানের অকাল মৃত্যুতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন সোহেলের মা হালিমা খাতুন, কিছুতেই কান্না থামছে না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে বিপদের মুখে পড়েছে পরিবারটি।

সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (০৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৭ মিনিটে রানার মৃত্যু হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ।

জানা গেছে, ইটনা উপজেলার চৌগাঙ্গা ইউনিয়নের কেরুয়ালা গ্রামের দরিদ্র কৃষক নূরুল ইসলাম ও মোছা হালিমা খাতুনের ৪ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন সবার বড়। মাত্র তিন বছর আগে ফায়ার সার্ভিসে ফায়ারম্যান হিসেবে নেন তিনি। গত ২৩ মার্চ সবশেষ বাড়ি এসেছিলেন সোহেল রানা। সেদিন ঢাকায় যাওয়ার সময় মাকে বলেছিলেন ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে খুব শিগগির বাড়ি আসবেন। তবে এবার তিনি জীবন থেকেই নিলেন লম্বা ছুটি। প্রিয় সন্তানের মৃত্যু খবরে তাই বুক চাপড়ে মাতম করছেন মা-বাবাসহ স্বজনরা।

আরো জানা গেছে, নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা সোহেলের পরিবারের। একটি টিনের দোচালা ঘরে বাবা-মা চাচা-চাচিসহ সবাই থাকেন গাদাগাদি করে। বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসড। বাড়ির পাশের চৌগাঙ্গা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পাস করেন। কিন্তু টাকার অভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না সোহেল রানার।

তাই অটোরিকশা চালিয়ে আর প্রাইভেট পড়িয়ে করিমগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ২০১৪ সালে। পরের বছরেই যোগ দেন ফায়ার সার্ভিসে। তার আয়েই চলতো পরিবারের ভরণপোষণ ছাড়াও ছোট ভাইদের লেখাপড়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন স্বজনরা।

এলাকাবাসী জানান, সোহেল রানা অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের ছিলেন। বাড়ি এলে আশপাশের লোকজনের খোঁজখবর নিতেন।

চৌগাঙ্গা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, ছেলেটি খুবই অমায়িক ছিল। পরিবার দরিদ্র হওয়ায় আমরা তাকে লেখাপড়ায় সহযোগিতা করেছি। চাকরি পাওয়ার পর বাড়ি এলেই স্কুলের খোঁজখবর নিত।

আরও পড়ুন... বিখ্যাত প্রেমের কবিতা

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...