শনিবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং। ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। সকাল ১০:৪৫








প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়/কলাম

শেখ হাসিনাকে মনে রাখবে তো এই শিক্ষকেরা?

শেখ আদনান ফাহাদঃ গ্রামের বাড়িতে বউ ভাতে অনেক মানুষ এসেছিল। সবাইকে না করলেও, আমি আর আমার বউ একজন বিশেষ অতিথিকে পা ছুঁয়ে সালাম করেছিলাম। তিনি অমৃত স্যার, আমার স্কুলের সম্মানিত শিক্ষকদের একজন। একজন শিক্ষকের জীবন কেমন হয় সেটি নিজের চোখে নিজের পরিবারেই দেখেছি। বাবা অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ আবু হামেদ ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে গ্রামে মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। রাজনীতি এবং শিক্ষকতার মাধ্যমে সমাজকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন। বিনিময়ে পেয়েছেন আজীবনের আর্থিক কষ্ট। দারিদ্র যাদের মহান করেছে, দেশের শিক্ষকরা তাঁদেরই একদল।

সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবু বেতন রেগুলার পান, কিন্তু ননএমপিও শিক্ষকদের বেতন-ভাতার কোনো ঠিক নেই। এক মাসে আংশিক বেতন হলে তো আরও কয়েক মাস বেতন নেই। ঈদের সময় সরকারি চাকুরেরা টাকার নতুন নোট নিতে ব্যাংকে ভিড় করলেও ননএমপিও শিক্ষকদের কোনো ঈদ বোনাস থাকেনা। টিউশনি করে, ব্যাচ পড়িয়ে সামান্য বাড়তি কিছু টাকা আয় হয় তাঁদের। যারা বিভাগীয় শহর বা জেলা-উপজেলা শহরে ইংরেজি, অংক, রসায়ন ও অন্যান্য জটিল বিষয়ে পারদর্শী তারাই কেবল একটু বাড়তি পয়সার মুখ দেখেন। কিন্তু এটা কোনো মানুষের জীবন হতে পারে না। ব্যক্তিগত জীবনের সাধ আহলাদ বলে কিছু থাকে না এসব ব্যাচ পড়ানো শিক্ষকদের।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...

এ কেমন শিক্ষা-ব্যবস্থা আমাদের? কলেজের শিক্ষকদেরকে ‘ক্যাডার’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। আবার নামে ‘শিক্ষা ক্যাডার’ হলেও প্রশাসন বা পুলিশের মত পদোন্নতি নাই কলেজে। এক সাথে জয়েন করে কেউ হয় সচিব, কেউ সহযোগী অধ্যাপক হতে হতে চাকরি শেষ। হাইস্কুলের শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরীজীবী! কোনো পদোন্নতি নাই। সহকারী শিক্ষক হিসেবেই অনেক শিক্ষক চাকরি থেকে অবসর নেয়। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। অথচ প্রাইমারি শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জীবনের। এই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে যারা শিক্ষকতা করেন তাঁরা রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী! আজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নানা বিদেশি বৃত্তি মন্ত্রণালয়েই ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদেরকে নানা অনুষ্ঠানে হেয় করা হয়, প্রটোকলের নামে। নানাভাবে ৭৩ এর অধ্যাদেশের স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা চলছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি পাসপোর্ট দেয়া হয় না, অথচ সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকবৃন্দও সরকারি পাসপোর্ট পান।

অথচ এই তৃতীয় এবং দ্বিতীয় শ্রেণির গরিব, আনস্মার্ট কর্মচারীদের (শিক্ষক-শিক্ষিকাদের) হাতেই প্রথম শ্রেণির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ে পড়ালেখা শিখেন। এদেরই হাতে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েরা ম্যাজিস্ট্রেট হয়, সচিব হয়, শিক্ষা কর্মকর্তা হয়, মন্ত্রী হয়, এমপি হয়; কিন্তু শিক্ষকদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। ছাত্র-ছাত্রীরা বড় বড় মানুষ হয়ে ভুলে যায়, তাঁদের শিক্ষকরা এখনো জীবন যুদ্ধে সর্ব শক্তি দিয়ে লড়ে চলেছেন। গ্রামের ছেলে-মেয়েগুলোই তো শহরে এসে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএস অফিসার হয়ে পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়। এদেশের প্রায় সব সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকরা গ্রাম থেকে আসা। যারা ঢাকায় বা বিভাগীয় সদরে ইংলিশ মিডিয়ামে শিক্ষিত হয়, এদের বড় একটা অংশ বিদেশ চলে যায়, বাকিরা দেশের ভেতরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বা পারিবারিক ব্যবসা করে জীবন কাটিয়ে দেয়। নীতিনির্ধারকরা ঘুরেফিরে প্রায় সবাই গ্রাম থেকেই আসা। তবু কেন গ্রামের, মফস্বলের শিক্ষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়না?

ভাগ্য পরিবর্তন হবে না। কারণ আমরা যে সিস্টেমের কারাগারে বন্দী হয়ে আছি। দিন দিন আমরাই এই কারাগার বড় করে চলেছি। আমাদেরই কিছু মানুষ এই কারাগারের নিয়ন্ত্রক। আমাদের ছেলে-মেয়েরাই এই নিয়ন্ত্রক সাজার পাইপলাইনে আছেন। অথচ এই কারাগার ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশ আমলের আমলাতন্ত্র ভেঙ্গে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন। শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা দিতেন জাতির জনক। এইজন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিলেন। আমলাতন্ত্র নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও অবস্থান ছিল। আমলা হওয়ার সুযোগে রাষ্ট্র এবং সমাজের বড় সব সুবিধা ভোগের তীব্র বিরোধী ছিলেন জাতির জনক। বঙ্গবন্ধু হাজার হাজার প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক নির্মমভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নিহত হলে, পথ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। পথ হারায় শিক্ষাব্যবস্থাও।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে অবস্থান এবং গণঅনশন কর্মসূচি চলেছে দিনের পর দিন। যৌক্তিক দাবি ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের। সেবা দিবে, বেতন পাবে না কেন? শিক্ষার তো কোনো সরকারি-বেসরকারি ভেদাভেদ নেই, তাহলে শিক্ষকদের কেন থাকবে?

২৬ ডিসেম্বর থেকে সরকারস্বীকৃত ৫ হাজার ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবি, ২০১১ সাল থেকে সরকার আশ্বাস দিয়ে আসছিল এমপিওভুক্ত করার। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একই নিয়মনীতিতে পরিচালিত হয়। একই শিক্ষাক্রম, পাঠ্যক্রম ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করে। শিক্ষার্থীরাও বোর্ড থেকে একই মানের সনদ অর্জন করে। অথচ বেতন পান না তাঁরা। যদিও দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ২১ লাখ চাকরিজীবীর বেতন বেড়েছে।

আমরা বেশ বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি। সব ভুলে যাই। বিএনপির আমলের কথা আমাদের মনে থাকে না। বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান এক অর্ডারে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবার এই প্রক্রিয়া চালু করে। এর ধারাবাহিকতায় সরকার এক হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে। কিন্তু মাঝখানে এই প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকরা আমরণ অনশনের মত কঠোর আন্দোলনে গেলে, নতুন করে সরকারের টনক নড়ে। প্রচণ্ড শীতে কষ্টরত শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমপিও ভুক্ত করার ঘোষণা দিলে শিক্ষকরা নাচতে নাচতে, গাইতে গাইতে বাসা-বাড়িতে চলে যায়।

শেখ হাসিনার বাবা, আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও শিক্ষকদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন। কিন্তু আমরা শিক্ষক সমাজ কি সে কাজের দাম রেখেছি। আমাদের মধ্যেই কিছু মানুষ আজ প্রশ্ন ফাঁস করি, শিক্ষার নামে ব্যবসা করি, প্রাইভেট ভার্সিটিতে বেশি মনোযোগী, কোচিং ব্যবসা করি, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে দলাদলি করি, যৌন নিপীড়ন করি। শেখ হাসিনা যে শিক্ষকদের এত বড় উপকার করলেন, এই প্রতিদান আমরা কীভাবে দিব? আমরা কি ভুলে যাব সব? আমাদের অনেকেই যেমন বঙ্গবন্ধুকেও ভুলে যাই।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

সুত্র-ঢাকা টাইমস

নাহিদকে ঘিরে এসব কি ঘটতে যাচ্ছে?
‘শিক্ষা ক্যাডার’ প্রশাসন বা পুলিশের মত নেই পদোন্নতি
পুলিশ নিয়োগেই গণ্ডগোল!


সর্বশেষ সংবাদ

কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত

কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসায় আসলে কী শিখছে শিক্ষার্থীরা জেনে নিন

এক নজরে দেখেনিন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোরগুলো

আজ ২০/০১/২০১৮ তারিখ দেখে নিন আজকের টাকার রেট!

এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন

অাইভীর শরীরের কন্ডিশন কী জানা যাবে অাজ

নারী ধূমপায়ীদের তালিকায় বিশ্বে প্রথম হলো বাংলাদেশ!

তৈমুরের কাছে মেয়েকে রাখতে ভয় পান সোহা আলি খান!

দিনে করেন শিক্ষকতা, রাতে গাড়ি জ্বালিয়ে দেন যে অধ্যাপক! জানুন বিস্তারিত….

প্রতি ঘণ্টায় মাদকের ১১টি করে মামলা হয় !

বাদ পড়ছেন বিতর্কিত শতাধিক এমপি জেনে নিন তারা কে কে

পপ তারকা শাকিরার উত্থান পতনের গল্প,যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক, উত্তর কোরিয়ায় হামলার প্রস্তুতি!

নড়াইলে প্রতিপক্ষের হামলায় ১৪ জন গুলিবিদ্ধ

‘আমরা এখনো একসঙ্গে আছি’

আরব আমিরাতে কাতারের যুবরাজের আত্মহত্যার চেষ্টা

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ, দেখে নিন বাংলাদেশের অবস্থান কত?

পাইলটের বুকের পাটার জোরে বেঁচে ৭২ জনের প্রাণ (দেখুন Ilve ভিডিও)

অদ্ভুত ঘটনা, এই ব্যক্তি ৬০০০ সাল থেকে ২০১৮-তে এসেছেন!

কুয়েতে ১ বছরে ২১৭ প্রবাসীর মৃত্যু





error: Content is protected !!
Copy to clipboard