শনিবার, ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং। ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। বিকাল ৩:৫৪








প্রচ্ছদ » ক্রাইম ওয়ার্ল্ড

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়মের আখড়া !

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’-  মেটালের ওপর সোনালী হরফে শিরোনামটি লেখা রয়েছে  সেই পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারা ফটকে । সেখানেও অভিনব কায়দায় মাদক ঢুকছে। কেউ গিলে মাদক আনছে। শুকনা মরিচের ভেতরে করে আনছে।

কেউ আনছে পেঁয়াজের ভেতরে করে।  কারাগারের ভেতর মাদক কেনাবেচা এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও কারা বিধি ভঙ্গের কারণে গত ১ বছরে কমপক্ষে ২০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...

আর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল প্রবেশদ্বার ও বাইরের কারা ক্যান্টিনসহ কয়েকটিস্থানে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সুন্দর হরফে ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

টাকা ছাড়া কারাগারের ভেতরে মেলেনা বন্দিদের কোনো সুযোগ-সুবিধা। মরণ নেশা ইয়াবাসহ যেকোনো ধরণের মাদক কেনাবেচা হয় কারাগারের ভেতর। আর মাদক কেনাবেচায় খোদ জড়িত রয়েছে কতিপয় অসাদু কারারক্ষী ও কারা কর্মকর্তারা।

টাকার কাছে কারাগারের সকল বিধিই এখন নতজানু। চাহিদার টাকা যথা সময়ে না পেলে পান থেকে চুন খসলেই বন্দিদের ওপর নেমে আসে জুলুম-নির্যাতন। নবনির্মিত এ কারাগারটিতে পদে পদে চলছে অবৈধ ঘুষের লেনদেন।

সম্প্রতি কারাগারে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও বন্দিদের দুরবস্থা এবং অব্যবস্থাপনা রোধ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা মহাপরিদর্শককে এ বিষয়ে আরো সতর্কতার সাথে

দায়িত্ব পালনের দিক-নির্দেশনা দেয়া হলেও তা আমলেই নিচ্ছে না স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগার ঘুরে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘড়িয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে ৩১ একর জমিতে

গড়ে ওঠা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চলছে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি আর অনিয়ম। কারাগারের প্রধান ফটকের অদুরে রয়েছে বন্দিদের সাথে সাক্ষাতপ্রার্থীদের নাম-ঠিকানা লেখার একটি বেঞ্চ। মূলত সেখান থেকেই শুরু অনিয়ম আর ঘুষ বাণিজ্য।

ওই বেঞ্চের দায়িত্বরত কারারক্ষীদের ধীর গতিতে নাম নিবন্ধন করার পাশাপাশি চলতে থাকে দালালদের দেনদরবার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য

সংক্রান্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে জামিন শাখা, কারা হাসপাতাল, খাবার ক্যান্টিন, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অন্য কারাগারে

বদলির ভয় দেখিয়ে বন্দি ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কারাগারের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ কারারক্ষীদের বিশাল একটি সিন্ডিকেট। এছাড়া টাকার জন্য বন্দিদের শারীরিকভাবে নির্যাতনেরও অভিযোগ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারা হাসপাতালের সুরমা বিল্ডিংটি মেডিকেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেকোনো আসামি বা কয়েদি ১২ হাজার টাকা দিলে সেখানে ভর্তি হতে পারেন। ওই হাসপাতালে অসুস্থ রোগীর চাইতে সুস্থ রোগীর সংখ্যাই বেশি।

সেখানে থাকা প্রত্যেক আসামিকে চিকিৎসক বাবদ প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা, সার্ভিস চার্জ ২ হাজার টাকা এবং খাবারের খরচ বাবদ ৬-৭ হাজার টাকা দিতে হয়। হাসপাতালের রাইটার রবিন ও রহিমের মাধ্যমে এ টাকা সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হতে একজন আসামিকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে যার টাকা আছে অথবা উপর থেকে ফোন করানোর ক্ষমতা আছে তারা অসুস্থ হোক বা না-ই হোক বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন।

যাদের টাকা নাই তারা গুরুতর অসুস্থ হলেও বাইরে যেতে পারেন না, গেলেও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন না। সুস্থ রোগীদের হাসপাতালে থাকার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একাধিক চিঠি ও প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।

এসব প্রতিবেদনে হত্যা মামলার আসামি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ ও ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনের নাম উল্লেখ ছিলো।

সম্প্রতি উন্নত চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কারাগার থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হন মাদক মামলার আসামি সাগর। অতঃপর হাসপাতালে বসে মোবাইল ফোনে মাদক ব্যবসা করতে দেখা যায় তাকে।

টাকার বিনিময়ে স্ত্রীকেও সঙ্গী হিসেবে হাসপাতালে পান সাগর। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন চিত্রও তুলে ধরা হয়েছিলো।কারাগারের সামনে অপেক্ষমান মাদক মামলার আসামি বন্দি ইমরানের ভাই শাফিন জানান, তার ভাই ইমরান মাদক সেবন ও ব্যবসার অপরাধে কারাগারে।

মাদকাসক্তের কারণে তার চিকিৎসার প্রয়োজন, হাসপাতালে ভর্তি করানো দরকার। ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, ভেতরেই কারা হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে ভর্তি হতে ১০ হাজার টাকা চেয়েছে কারাগারের একটি চক্র।

পরে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে ভাইকে সেখানেই ভর্তি করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক কারাগারের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে বলেন,

চিকিৎসাকেন্দ্র হলো আসামিদের সেবার স্থল। কারাগারে আসামিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনটি যদি সত্য হয়, টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সুস্থ বন্দিরা যদি হাসপাতালে অবস্থান করে,

তাহালে এটা হবে অসুস্থ রোগীদের মৌলিক অধিকার হরণ। আমরা এ ধরনের অভিযোগ আগেও শুনেছি। তা প্রতিকার করা জরুরি। কারাগারে আসামিরা এমনিতেই কষ্টে থাকেন, এরপরও যদি অসুস্থ হয়ে সেবা না পান তাহলে আর কষ্টের সীমা থাকে না।

আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে এবং কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিতের দাবি করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

 



সর্বশেষ সংবাদ

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশীর মরদেহ উদ্ধার

প্রিয় শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের একি কান্ড !

জাল পরচা তৈরী করে কোটি টাকার জমি রেজিষ্ট্রি

কেবল গায়ের রঙ কালো বলায় খাবারে বিষ, অতঃপর যা হল চার শিশুর…

চুয়াডাঙ্গায় মাদকব্যবাসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে, কঠিন সমীকরণের সামনে ব্রাজিলের

কার্ডের কারনেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হতে পারে আর্জেন্টিনা

অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল: ইসি সচিব

নেইমারের ভক্ত হিসেবে নিজে ও ছেলেকে পরিচয় করালেন অপু

‘বাবা আমাকে রোজ রাতে ধর্ষণ করে’

কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৬

তল্লাশির নামে স্বামীকে সরিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করল পুলিশ!

রাজধানীর দক্ষিণখানে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে

আমি না চাইলে জীবনেও পাসপোর্ট পাবেন না, হাই কমিশন কর্মকর্তার দম্ভোক্তি!

গোল করার পর যে কারণে কেঁদেছিল নেইমার!

ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেঃ ইরান

শিশুকে বলাৎকারের সময় হাতেনাতে আটক

‘আ:লীগ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় না,অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে : শেখ হাসিনা

বাবা যখন বিশ্বকাপ দেখায় ব্যস্ত, তখন মা-মেয়েকে হত্যা

‘মসজিদ আমাদের ব্যারাক, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, ঈমানদাররা আমাদের সৈনিক।’





error: Content is protected !!
Copy to clipboard