বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং। ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। বিকাল ৪:১০








প্রচ্ছদ » রাজনীতি

কবে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেককে?

Loading...

বর্তমানে খুবই একটি খারাপ সময় যাচ্ছে বিএনপির জন্য। একের পর এক দুঃসংবাদ যেন পেয়েই যাচ্ছেন তারা। প্রথমত বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আছেন জেলে। সাথে তারেক জিয়ারও সেই মামলায় জেল এর রায় ছিল। আবার গতকাল ২১ আগস্টের ঘটনায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে কথা চলছে। মৃত্যুদণ্ড হলে বিদেশে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) দেওয়া হয়। তবে তারেক রহমানের তো যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া সমর্থন করে না। তাই তাকে ফিরিয়ে আনতে কষ্ট হবে না বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজ বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...
Loading...

অ্যাটর্নি জেনারেলও মনে করেন এই মামলায় তারেক রহমানের ফাঁসির আদেশ হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো নিজে খুন করেননি, কিন্তু খুন করিয়েছেন বলে তাকেও মৃত্যুদণ্ড পেতে হয়েছে। তাই আমারও মনে হয়, তারেকের অন্যান্যদের মতো ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। আজ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে, রাষ্ট্রীয় সমর্থন, প্ররোচনা ও অর্থায়নে এই হামলা হয়েছে।’

‘এ মামলায় তারেক রহমানকে যদি নাটের গুরু বলা হয়ে থাকে, তবে সেটা রায় পর্যালোচনা করে দেখব। রায় পড়ে যদি দেখি তারও মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল, তবে তার দণ্ড বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করব। এর সবটাই নির্ভর করবে রায়টি পড়ার পর।’

তারেক রহমান ১০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এর আগেও দুর্নীতির দুই মামলায় তার মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারেককে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড হলে বিদেশে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) দেওয়া হয়। তবে তারেক রহমানের তো যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া সমর্থন করে না। তাই তাকে ফিরিয়ে আনতে কষ্ট হবে না।’

মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এলে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তাদের আদালত থেকে বিনা খরচে রায়ের কপি দেওয়া হয়। আর তারা যদি আপিল ফাইল করে, তবে সেটাও ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসবে।’

‘সেক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব শুনানির জন্য পদক্ষেপ নেব। তবে এটাতে পেপারবুক তৈরি করার বিষয় রয়েছে, সেগুলো আদালতের বিষয়। মামলার আপিল শুনানিতে আমাদের পদক্ষেপগুলো আমরা নেব।’

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ে একজন পাকিস্তানিও সাজা পেয়েছেন জানিয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ‘এখানে আমরা অনুমান করছি, বাংলাদেশের ক্ষতি করার জন্য, বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য পাকিস্তান এখনও নিবৃত্ত হয়নি। দেশটি এরই মধ্যে সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা সেক্ষেত্রে জেএমবিসহ জঙ্গিদের দমন করতে সফল হয়েছি। সাজাপ্রাপ্ত ওই পাকিস্তানি নাগরিককে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’