বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং। ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। সকাল ৭:১৩








প্রচ্ছদ » সারাদেশ

প্রেমের ফাঁদে পড়ে এক শিক্ষককে বিয়ে করলেন ২ শিক্ষিকা, এলাকায় চাঞ্চল্য!

Loading...

প্রতিনিয়ত কত রকমের ঘটনা ঘটে চলেছে আমাদের চারিপাশে। তার সব আমারা জানতে না পারলেও কিছু কিছু খবর মিডিয়ার কল্যাণে চলে আসে আমাদের নিকট। কিন্তু কিছু কিছু খুবই আমাদের খুবই অবাক করে দেয়। আর তেমনি একটি ঘটনা এটি।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাওড়াপাড়া গ্রামে প্রেমের ফাঁদে পড়ে দুই শিক্ষিকাই বিয়ে করেছেন রাজিব নামে এক কোচিং শিক্ষককে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যলের সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...
Loading...

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলার হাওড়াপাড়া এলাকায় ‘এক্টিভ’ নামে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন রাজিব। ওই কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন স্থানীয় গোপালপুর গ্রামের রিমু আক্তার (২২) ও পৌজান গ্রামের মরিয়ম আক্তার (২২) নামে দুই শিক্ষিকা। ওই শিক্ষিকাদ্বয়কে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন রাজিব। সম্প্রতি মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় স্থানীয়রা হাতে নাতে ধরে ফেলে।

পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে রাজিব ও মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিন রাজিব আরেক শিক্ষিকা রিমু আক্তারকে নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। সেখানে তারা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। ৫ দিন পর দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরেন রাজিব। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে রিমু আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘ ৫ বছর ধরে আমার সঙ্গে রাজিবের প্রেমের সম্পর্ক। আমি দুই শিফটে কোচিংয়ে শিক্ষকতা করে বেতনের অর্ধেকাংশ আমি নিতাম এবং বাকিটা রাজিবকে সংসারের আসবাবপত্র বানানোর জন্য দিতাম। দীর্ঘদিন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও সে আমাকে বিয়ে করেনি। কিন্তু যখন পারিবারিকভাবে জোরপূর্বক মরিয়মের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়, তার পরের দিনই সকালে সে আমাকে ডেকে ঢাকায় নিয়ে বিয়ে করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজিবের পরিবার কোনো ভাবেই আমাকে মেনে নিতে পারছে না। আমি রাজিবের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে মানবেতর জীবন-যাপন করছি।’

রাজিবের প্রথম স্ত্রী মরিয়ম আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোচিংয়ে শিক্ষকতা করার সুবাদে রাজিবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক এবং এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। সে আমাকে বিবাহ না করার জন্য তালবাহানা করলে তখন আমি বিয়ের দাবিতে রাজিবের বাড়িতে গিয়ে উঠি। পরে সামাজিকভাবে এলাকাবাসী ও রাজিবের পরিবারের লোকজন আমাদেরকে বিবাহ দেয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বেশ কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজিব ও তার প্রেমিকার দুই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’